Cookie Consent by Cookie Consent

Header Ads

Header ADS
হিজরি ৬৯ বর্ষ।
খ্রিষ্টীয় ৬৮৮ শতাব্দী। 
মুসলিম বিশ্বে উমাইয়া শাসন চলছে। তবে মক্কা-মদিনায় ছিল আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা.-এর নিয়ন্ত্রণ। মক্কা-মদিনার শাসনকে কেন্দ্র করে বনু উমাইয়া আর আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর রা.-এর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে, তখন বসরায় দেখা দেয় মহামারি। ইতিহাসে এই মহামারিকে তাউনে জারিফ বলা হয়। আধুনিক পরিভাষায় বলতে হলে জারিফ ভাইরাস বলতে হয়।


জারিফ শব্দটি আরবি। অর্থ নিষ্কাশনকারী। বানের পানি যেভাবে সবকিছু নিষ্কাশিত করে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তদ্রুপ এই মহামারিও সব মানুষকে নিয়ে গিয়েছিল। এতবেশি মানুষ এই মহামারিতে মারা যায় যে, মহামারির নাম জারিফ হয়ে যায়। এই মহামারি স্থায়ী ছিল চারদিন।প্রথমদিনেই মারা যায় ৭০ হাজার লোক! দ্বিতীয়দিন মারা যায় ৭১ হাজার লোক!  তৃতীয়দিন মারা যায় ৭৩ হাজার লোক! আর চতুর্থদিন তো হাতেগুনা লোক ছাড়া বাকি সবাই মারা যায়! 

এই মহামারিতে যারা মারা যান, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রসিদ্ধ নাহুশাস্ত্রবিদ ইমাম আবুল আসওয়াদ দুঈলি। এমনকী এই মহামারিতে মারা যান স্বয়ং বসরার গভর্নর ইবনে মামরের মাতা। তার লাশ কাফন-দাফন করার জন্য কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত চারজন ভাড়াটে লোককে এনে কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। 

তারিক বিন শিহাব বাজালি। প্রসিদ্ধ তাবেয়ি। গণবিধ্বংসী  এই মহামারির সময়ে কয়েকজন লোকসহ তিনি হজরত আবু মুসা আশআরি রা.-এর কাছে আসেন। আলাপচারিতা করার জন্য। আবু মুসা বাড়িতেই ছিলেন। তিনি তখন কুফার গভর্নর। তারিক বিন শিহাব বাজালি তার সঙ্গীদের নিয়ে যখন বসতে গেলেন, তখন আবু মুসা আশআরি শশব্যস্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন, 'আপনারা নগ্নপায়ে হাঁটবেন না। এ ঘরে একজন লোক মহামারিতে আক্রান্ত। মহামারির প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই গ্রাম থেকে বেরিয়ে, আপনারা আপনাদের প্রশস্ত শহরের মুক্ত বাতাসে গিয়ে শ্বাস নিতে পারেন।' 

খুব খেয়াল করলে দেখবেন, আজ থেকে হাজার বছর পূর্বে, করোনার মতো জারিফ নামক গণবিধ্বংসী ভাইরাসের প্রতিরোধে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরি রা. কতটা সচেতন ছিলেন! তার ঘরে আগত মেহমানদেরকেও সতর্ক করেছিলেন। নগ্নপদে ঘরে হাঁটতে নিষেধ করেছিলেন। এমনকী তাদেরকে ভাইরাসাক্রান্ত গ্রাম থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের শহরের মুক্ত বাতাসের অবগাহন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। 

ইসলামে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই--তা ঠিক। তাই বলে সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করা যাবে না--এমন নয়। আপনাকে যথাসম্ভব সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। হজরত আবু মুসা আশআরি রা.-এর কথা থেকে আমরা এমনই শিক্ষা পাই। তাই আসুন, দুআ ও ইস্তিগফারের পাশাপাশি সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করি। 
-------
সূত্রাবলি :
*আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া : ৮/২১২, ইমাম ইবনে কাসির।
*তারিখুল ইসলাম : ৩/১২৯, ইমাম শামসুদ্দিন জাহাবি। 
*তারিখুল মুলুক ওয়াল উমাম : ৫/১২, ইমাম তাবারি।

No comments

Powered by Blogger.